যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্ক স্থগিত করেছে চীন। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিবাদ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি খরচ চীনা ক্রেতাদের জন্য আগের মতোই থাকবে। ফলে বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না। খবর রয়টার্স।
গতকাল চীনের স্টেট কাউন্সিলের ট্যারিফ কমিশন জানায়, গত এপ্রিলে মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত ২৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এক বছরের জন্য স্থগিত হচ্ছে। তবে একই সময়ে আরোপ করা ১০ শতাংশ বেজলাইন শুল্ক বহাল থাকবে।
১০ নভেম্বর থেকে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক ঘোষণা করেছিল চীন, তাও বাতিল হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃষিপণ্য আমদানিকারক দেশ চীন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত একের পর এক শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় এসব পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।
গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাধ্যমে চলমান বাণিজ্য বিবাদ নিরসনে আশাবাদ তৈরি হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনার ঘোষণা দেয় চীন। এমনকি বৈঠকের আগে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিওএফসিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিন কার্গো সয়াবিন কিনেছিল, যা অনেকেই সদিচ্ছার সংকেত হিসেবে দেখেছেন।
চীনের দেয়া নতুন ছাড় সয়াবিন আমদানির খরচ খুব বেশি কমাচ্ছে না। বর্তমানে সয়াবিন আমদানিতে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৩ শতাংশ, যার মধ্যে ৩ শতাংশ মূল শুল্ক। ব্যবসায়ীদের মতে, এ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি ব্রাজিলের তুলনায় ব্যয়বহুলই থাকছে। ফলে বাজারে বাণিজ্যিক ক্রেতারা এখনো তুলনামূলক সস্তা সয়াবিনের দিকেই ঝুঁকছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৭ সালে। তখন সয়াবিন ছিল চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্য ছিল সয়াবিন। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের সয়াবিন আমদানি করেছিল চীন। কিন্তু বাণিজ্য উত্তেজনার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চীনা শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চীনে মোট সয়াবিন আমদানির মাত্র ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে, যেখানে ২০১৬ সালে হিস্যা ছিল ৪১ শতাংশ। এতে মার্কিন কৃষকরা কয়েক বিলিয়ন ডলারের রফতানি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু শুল্ক স্থগিত করলেই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরবে না। এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মতে, ‘চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের চাহিদা বাড়বে, আমরা এখনই এমনটা মনে করছি না। ব্রাজিলে দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই অন্যান্য দেশও সেখান থেকেই সয়াবিন কিনছে।’